আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাস কাউন্টার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনব্যাপী এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত-১২) পরিচালনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত একটানা এই অভিযান করেন বিআরটিএ চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মুস্তফা।
অভিযান চলাকালীন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সত্যতা পেয়ে যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়াসহ সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৫টি ট্রাকের কাগজপত্র জব্দ এবং ৭টি মামলায় মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাস কাউন্টারে তল্লাশি ও অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত
মোবাইল কোর্ট টিম নগরীর অলংকার, এ. কে. খান, সিটি গেইট, পাক্কা মাথা বাস কাউন্টার এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের ফৌজদারহাট এলাকায় পরিদর্শণ ও অভিযান চালায়। এ সময় কন্ট্রোল রুমে আসা যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সত্যতা মেলে। তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্টের নির্দেশে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ানো হয়।
একই সাথে সকল কাউন্টারকে নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ঈদযাত্রায় কোনোভাবেই যেন ভাঙাচোরা, লক্কড়-ঝক্কড় এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় না নামে, সে বিষয়েও সর্তক করা হয়।
বিএসআরএম-এর ট্রাক চালকদের অসদাচরণ::
হাইওয়ের ফৌজদারহাট এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে ঈদের পূর্ববর্তী নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা (২৫-৩১ মে পর্যন্ত) অমান্য করে জাতীয় মহাসড়কে ওঠার অপরাধে ১০-১২টি ট্রাক আটক করা হয়। এর মধ্যে জরুরি খাদ্যপণ্যবাহী কিছু ট্রাক ছেড়ে দেওয়া হলেও, মাটি ও স্ক্রাব মালামাল পরিবহনকারী ট্রাকগুলোকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আটককৃত ট্রাকের চালকেরা নিজেদের 'বিএসআরএম কোম্পানির গাড়ি দাবি করে জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন। কোম্পানির লোক আসার অজুহাতে তারা দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করেন।
পরবর্তীতে বিআরটিএ ভিজিলেন্স টিমের জরুরি অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট টিমকে অলঙ্কার মোড়ের দিকে রওনা হতে হওয়ায়, জরিমানা অনাদায়ে উক্ত ৫টি ট্রাকের মূল কাগজপত্র জব্দ করে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং যানজটমুক্ত রাখতে মহাসড়ক ও বাস কাউন্টারগুলোতে এই ধরণের কঠোর নজরদারি ও মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।