১৬ই অক্টোবর ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে গড় পাশের হার ৫৮.৮৩%।বিগত একুশ বছরের সর্বনিম্ন ফলাফল।এমন ফলাফল নিঃসন্দেহে সবাইকে আশাহত করেছে।এর পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক কারণ। বহু বছরের পচন ধরা নির্মম বাস্তবতা।যখনই কৃত্রিম প্রশংসার দেয়াল ভেঙ্গে সত্যিকারের নাম্বার প্রয়োগ করা হলো তখনই ক্রিস্টাল ক্লিয়ার হল আমরা কতটা শূন্যের উপর দাঁড়িয়ে আছি।দায় রয়েছে পুরো শিক্ষাব্যবস্হার প্রতিটি স্তরে। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল মূলত ইংরেজি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এই বছর ইংরেজি বিষয়ের অকৃতকার্যের গড় ফলাফল ৩৯%।রীতিমতো massacre। এটা নিয়ে চারদিকে হইচই শুরু হয়েছে। গতবছর ও শিক্ষা বোর্ড সমূহে এবং সচিবালয়ে অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা বিভিন্ন অভিযোগসহ ভাঙচুরের ঘটনা পর্যন্ত পত্র-পত্রিকার খবর হয়েছে । বোর্ড কর্তৃপক্ষকেও তাদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মানববন্ধন করতে দেখা গেছে/.
এ বছরও মনে হয় এর ব্যতিক্রম হবে না। বিশেষ করে গত দুই দশকে যেখানে এ+ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতার মহড়া চলছিল সেখানে ইংরেজি একটি বিষয়ে ৩৯%(প্রায়) পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।রীতিমতো ডিজাস্টার বলা যায়। যে সময়ে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং একাডেমি সমূহ English phonetics, Basics, Four skills, CLT, Rhetoric English, Accent ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে মাতামাতি সেখানে আমাদের একশ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ১০০ নাম্বারে ৩৩ নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণই হতে পারেনি। অথচ Benefit of Doubt সবসময় পরিক্ষার্থীদের পক্ষে যায়। তা সত্ত্বেও ইংরেজি বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ ইংরেজি ভীতির যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি অ্যালার্মিং নিউজ। মনে হচ্ছে ইংরেজি বিষয়ের মানটা নির্দিষ্ট স্কুল-কলেজের ভিতর সীমাবদ্ধ-একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর ভেতর আবদ্ধ। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের ব্যবধানটা দিন দিন বাড়ছে। ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজিতে এ+ এর সংখ্যা বাড়ছে, অপরদিকে ইংরেজিতে অনুত্তীর্ণের সংখ্যাও বাড়ছে।যদিও এ বছর A+ এর সংখ্যা কমেছে। প্রকৃতপক্ষে জেলা শহর, বিভাগীয় শহরের কিছু স্কুল/কলেজ, তিন বাহিনী পরিচালিত স্কুল/ কলেজ আর কিছু বিশেষায়িত কলেজ বাদ দিলে বাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ইংরেজি বিষয়ের অবস্থা খুবই শোচনীয়। শহর থেকে একটু দূরে গেলেই এর সূচক অনেক নিম্নগামী। ভাল স্কুল /কলেজগুলো আরো ভালো করছে, অন্যদিকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো আরো দুর্বল হচ্ছে।এইচএসসি পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীর ইংরেজি বিষয়ের বেইসিক লেভেল খুবই প্রশ্নসাপেক্ষ।বিভিন্ন সময় তাদের প্রাথমিক স্তর এবং মাধ্যমিক স্তরের উত্তীর্ণের বিষয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন আসছে। ছাত্র/ ছাত্রীদের একটা অংশ দুই- তিন মাসে পুরো শিক্ষা বর্ষের সিলেবাস শেষ করে ৯০% এর উপর নাম্বার পেয়ে যায়। অন্যদিকে পুরো শিক্ষা বর্ষে ইংরেজি পড়ে অনেক শিক্ষার্থীদের পাস নাম্বার তুলতে হিমশিম খেতে হয়।
প্রকৃতপক্ষে ইংরেজি বিষয় নিয়ে আগেও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। কেন ইংরেজি বিষয়ের কারণে ফলাফল বিপর্যয় হয়? এটা কি করোনা মহামারীর ভয়াবহতা নাকি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বিফলতা? প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত টানা ১২ বছর ইংরেজি পড়ে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন তো দূরের কথা, পাস ও করতে পারছে না।
তাও আবার জেএসসি, এসএসসি, এবং এইচএসসি পরীক্ষার অনেকগুলো কমন আইটেমস/ গ্রামাটিক্যাল ডিভাইস এ পরীক্ষা হয়। যেমন : Seen Passage থেকে MCQ, Question Answer, Cloze Test with Clues,Cloze Test without clues, Re-arrange,Letter,Paragraph, Application, Article, Preposition, Right form of Verb,Narration, Punctuation and Capitalization,Graph/Chart,Completing Sentence, Transformation of Sentence. বলতে গেলে ৬০ – ৭০% সিলেবাস জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় একই।মাধ্যমিক পর্যায়ে এতগুলো আইটেমস এর সাথে পরিচিত হওয়ার পরও এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে এত অকৃতকার্য কেন? মূলত ভার্সিটি এবং মেডিকেল এডমিশন টেস্টের সময় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ের দুর্বলতার চিত্রটি ভালোভাবে ফুটে ওঠে। এডমিশন টেস্টের প্রশ্ন মুলত বেইসিক লেবেলের।এই সময় এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় A এবং A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় পাস মার্ক নিয়ে হিমশিম খেতে হয়।
অথচ ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্ন বিগত সাত-আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন ছিল।তাই প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার সময় এসেছে।
এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়ার কয়েকটি কারণ তুলে ধরছি :
১.ইংরেজি বিদেশী ভাষা হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে রীতিমতো আতঙ্কের নাম।তার ওপর করোনা মহামারীর প্রভাব। এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীর বদ্ধমূল ধারণা- ইংরেজি পড়ে তারা কোন অবস্থাতেই আয়ত্তে আনতে পারবে না। কলেজের শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই অনেক দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের যথেষ্ট আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। অনেক শিক্ষার্থী মাসের পর মাস কলেজে উপস্থিত হয় না। এসএসসি পাশের পর অনেক অসচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা চাকরিতে এনগেইজড হয়ে যায়। সারা বছর পড়াশোনায় সম্পৃক্ত না থেকে পরীক্ষার ভেন্যু/হলের ভাগ্যের উপর তীর্থের কাকের মতো বসে থাকে। (তাছাড়া ইংরেজি বিষয়ের বেশিরভাগ উত্তর এক শব্দের/ শব্দগুচ্ছ /বাক্যাংশ হওয়ার কারণে পরীক্ষার হলের সুবিধা নিয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা ভালো নাম্বার ও পেয়ে যায়।) তাদের মূল্যায়নের ক্রেডিবিলিটি এবং রিলাইবিলিটি নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
২.ছাত্র-ছাত্রীদের বড় একটা অংশ শ্রেণিকক্ষে শেখার চেয়ে কোচিং সেন্টারের পড়াশুনাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।বলা হয়ে থাকে, শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ এখন কোচিং সেন্টারের হাতে!
৩.ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে একটা মিস-কনসেপশন কাজ করে-পরীক্ষার খাতায় কিছু একটা লিখলেই নাম্বার। বিভিন্ন সময় প্রশ্নে থাকা প্যাসেজ গুলোর মাঝখানে তারা প্যারাগ্রাফ এবং কম্পোজিশনের নামটা লিখে দেয়। পরীক্ষার্থীরা এতে নাম্বার পাওয়ার দাবি করে। এবং পরবর্তীতে শিক্ষকদের/ পরীক্ষকদের দোষারোপ করতে দ্বিধাবোধ করে না। অনেক শিক্ষার্থী মনে করে তারা একই মানের লিখে জেএসসি, এসএসসি তথা পুরো মাধ্যমিক স্তর পার করে আসছে।পরবর্তীতে তারা অসন্তুষ্টি নিয়ে রি-স্ক্রুটিনির
(রি-চেক)আবেদন করে।
৪.এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা কথিত কিছু গাইড ‘Touch and Pass’, Magic English এবং একটা শিখলে অনেকগুলো শেখার নিন্জা টেকনিক টাইপের বই খুঁজে শিক্ষাজীবন পার করিয়ে দেয়।মাঝে মাঝে এ ধরনের টেকনিক কিম্ভূতকিমাকার মনে হয়।যদি একজন স্টুডেন্ট Smart Bangladesh প্যারাগ্রাফ এ এভাবে লিখে- smart Bangladesh is one of the greatest problems in our country. It is very detrimental for our country. Government should take stern steps against it…. ব্লা ব্লা ব্লা
৫.ছাত্র-ছাত্রীরা মেমোরাইজেশন এর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়। পরীক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ প্রশ্নই বুঝে না-বোঝার চেষ্টাও করে না। মুখস্ত বিদ্যার উপর নির্ভর করা এইসব দুর্বল শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন সহজ আর কঠিন একই কথা।
৬.এইচএসসিতে আবশ্যিক বিষয় বাংলা এবং আইসিটি তুলনায় ইংরেজি বিষয় ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনেক কঠিন। আইসিটি বিষয়ে প্রথম তিন অধ্যায় (প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষে) পড়লে মোটামুটি কমন পড়ে যায় এবং ৬০%- ৭০% নাম্বার অনায়াসেই পাওয়া যায়। বাংলা বিষয়ের বিগত ২-৩ বছরের বোর্ডের প্রশ্নগুলো আয়ত্ত করে অনধিক ৬০% নাম্বার সহজে পাওয়া যায়। পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রশ্ন সহজের চেয়ে কমন পড়াটায় একটা বড় ব্যাপার। তাছাড়া বাংলা এবং আইসিটি বিষয়ের প্রশ্নে অপশন দেওয়া থাকে। যেমনঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে পাঁচটি রচনার মধ্যে একটি রচনা লিখতে হয় এবং প্রতিটি প্রশ্নের মধ্যে অপশন দেওয়া থাকে। ইংরেজি বিষয়ে কোনো প্রশ্নের মধ্যে অপশন থাকে না। তাছাড়া বিগত ১০ বছর এর বোর্ডের প্রশ্ন পড়ে যে কোন কিছু হুবহু কমন আসবে এর কোন গ্যারান্টি নেই।প্রকৃতপক্ষে ইংরেজি বিষয়টি বেইসিক নির্ভর।
৭.তাছাড়া এইচএসসির ফরম পূরণের সময় শিক্ষা বোর্ডের নিয়মবহির্ভূতভাবে (ঢালাওভাবে) ফরম পূরণ ও ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৮.শিক্ষা বোর্ডে নিয়োজিত পরীক্ষকগনের মধ্যে নাম্বার দেওয়ার ক্ষেত্রে হরেক রকম মেন্টালিটি।
৯.জেলা শহর এবং মহানগরের বেশির ভাগ কলেজগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগে উপচে পড়া ভিড় থাকে ।বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্র-ছাত্রীদের কারণে এসব কলেজগুলোতে পাশের হার অনেক বেশি। কিন্তু মফস্বলের অনেক বড় বড় কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের কাম্য সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী নেই। ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিক বিভাগ কেন্দ্রিক এসব কলেজে ইংরেজিতে অকৃতকার্যের হার বেশি থাকে। ২০২৪ সালের (চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের) এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানবিক বিভাগের পাশের হার ৫৭.১১%,ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পাশের হার ৭৩.৫২% এবং বিজ্ঞান বিভাগের পাশের হার ৯১.৩৩%। এই বছর ও এর ব্যতিক্রম নয়।বিজ্ঞান বিভাগ ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
১০. যোগ্য লোক যোগ্য জায়গায় নেই।
সম্ভাব্য প্রতিকার সমূহ :
১.ফলাফল উত্তরণ তথা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর) এবং শিক্ষাবোর্ডসমূহ ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, শ্রেণী কার্যক্রম মনিটরিং,এবং অভিভাবক সমাবেশ ফলপ্রসু করার ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জোরারোপ করতে পারেন।
২.ফরম পূরণের সময় শিক্ষা বোর্ডের বিধি নিষেধ পুরোপুরি মেনে চলা । নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা যাতে ফরম পূরণের আওতায় না আসে সেদিকে বোর্ড কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি রাখা।
৩.ইংরেজি বিষয়কে আরো ফ্লেক্সিবল করার জন্য বিশেষ করে কম্পোজিশন পার্ট এ অপশনের (২/৩)ব্যবস্থা করা
৪.সম্মানিত পরীক্ষকগনের মধ্যে নাম্বারের তারতম্য কমানোর জন্য শিক্ষা বোর্ডের আলোচনার (কর্মশালা) পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের প্রতিটি পত্রের জন্য একটি করে WHATSAPP গ্রুপ (অন্য কোন অ্যাপস) এর মাধ্যম থাকলে নবীন, প্রবীণ সম্মানিত পরীক্ষকগন দুই মাস ব্যাপী কর্মযজ্ঞে প্রতিনিয়ত তাদের মতামত শেয়ার করতে পারবেন।
৫.যে সমস্ত কলেজের ফলাফল ৫০% এর নিচে সে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডসমূহ শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ফলাফল উত্তরণ শীর্ষক একটি কর্মশালার আয়োজন করতে পারেন। ২০২০ সালের আগে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডসহ কয়েকটি বোর্ডে ফলাফল পরবর্তী (ইংরেজি এবং আইসিটি শিক্ষকদের নিয়ে) এই ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো।
৬.শিক্ষা বোর্ড সমূহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাত্র-ছাত্রীদের সুষম বিতরণ ব্যবস্থা(লটারির মাধ্যমে) নিশ্চিত করতে পারেন। অনেক এমপিও ভুক্ত কলেজে যদি প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১২০০/২৪০০/৩০০০ জন ছাত্র -ছাত্রী। অপরদিকে অনেক প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রীর অভাবে (ভর্তির ক্ষেত্রে রিকোয়ারমেন্ট জিপিএ ১/২ দেওয়ার পরও) অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে যদিও একই মানের শিক্ষকেরা পাঠদান করে আসছেন। ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে সুষম বন্টন হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা যেভাবে উপকৃত হবে, ছাত্র সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানসমূহ ও নতুন গতি পাবে।
সর্বোপরি, শিক্ষা প্রশাসনের সুন্দর এবং গঠনমূলক নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফলাফল উত্তরণ সম্ভব।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) ও পরীক্ষক, নিরীক্ষক এবং পুনঃনিরীক্ষক,চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।
এইচএসসির ইংরেজি বিষয়ে ফলাফলে ধস – কিছু সাদাসিধে কথা!
১৬ই অক্টোবর ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে গড় পাশের হার ৫৮.৮৩%।বিগত একুশ বছরের সর্বনিম্ন ফলাফল।এমন ফলাফল নিঃসন্দেহে সবাইকে আশাহত করেছে।এর পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক কারণ। বহু বছরের পচন ধরা নির্মম বাস্তবতা।যখনই কৃত্রিম প্রশংসার দেয়াল ভেঙ্গে সত্যিকারের নাম্বার প্রয়োগ করা হলো তখনই ক্রিস্টাল ক্লিয়ার হল আমরা কতটা শূন্যের উপর দাঁড়িয়ে আছি।দায় রয়েছে পুরো শিক্ষাব্যবস্হার প্রতিটি স্তরে। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল মূলত ইংরেজি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এই বছর ইংরেজি বিষয়ের অকৃতকার্যের গড় ফলাফল ৩৯%।রীতিমতো massacre। এটা নিয়ে চারদিকে হইচই শুরু হয়েছে। গতবছর ও শিক্ষা বোর্ড সমূহে এবং সচিবালয়ে অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা বিভিন্ন অভিযোগসহ ভাঙচুরের ঘটনা পর্যন্ত পত্র-পত্রিকার খবর হয়েছে । বোর্ড কর্তৃপক্ষকেও তাদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মানববন্ধন করতে দেখা গেছে/.
এ বছরও মনে হয় এর ব্যতিক্রম হবে না। বিশেষ করে গত দুই দশকে যেখানে এ+ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতার মহড়া চলছিল সেখানে ইংরেজি একটি বিষয়ে ৩৯%(প্রায়) পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।রীতিমতো ডিজাস্টার বলা যায়। যে সময়ে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং একাডেমি সমূহ English phonetics, Basics, Four skills, CLT, Rhetoric English, Accent ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে মাতামাতি সেখানে আমাদের একশ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ১০০ নাম্বারে ৩৩ নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণই হতে পারেনি। অথচ Benefit of Doubt সবসময় পরিক্ষার্থীদের পক্ষে যায়। তা সত্ত্বেও ইংরেজি বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ ইংরেজি ভীতির যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি অ্যালার্মিং নিউজ। মনে হচ্ছে ইংরেজি বিষয়ের মানটা নির্দিষ্ট স্কুল-কলেজের ভিতর সীমাবদ্ধ-একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর ভেতর আবদ্ধ। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের ব্যবধানটা দিন দিন বাড়ছে। ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজিতে এ+ এর সংখ্যা বাড়ছে, অপরদিকে ইংরেজিতে অনুত্তীর্ণের সংখ্যাও বাড়ছে।যদিও এ বছর A+ এর সংখ্যা কমেছে। প্রকৃতপক্ষে জেলা শহর, বিভাগীয় শহরের কিছু স্কুল/কলেজ, তিন বাহিনী পরিচালিত স্কুল/ কলেজ আর কিছু বিশেষায়িত কলেজ বাদ দিলে বাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ইংরেজি বিষয়ের অবস্থা খুবই শোচনীয়। শহর থেকে একটু দূরে গেলেই এর সূচক অনেক নিম্নগামী। ভাল স্কুল /কলেজগুলো আরো ভালো করছে, অন্যদিকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো আরো দুর্বল হচ্ছে।এইচএসসি পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীর ইংরেজি বিষয়ের বেইসিক লেভেল খুবই প্রশ্নসাপেক্ষ।বিভিন্ন সময় তাদের প্রাথমিক স্তর এবং মাধ্যমিক স্তরের উত্তীর্ণের বিষয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন আসছে। ছাত্র/ ছাত্রীদের একটা অংশ দুই- তিন মাসে পুরো শিক্ষা বর্ষের সিলেবাস শেষ করে ৯০% এর উপর নাম্বার পেয়ে যায়। অন্যদিকে পুরো শিক্ষা বর্ষে ইংরেজি পড়ে অনেক শিক্ষার্থীদের পাস নাম্বার তুলতে হিমশিম খেতে হয়।
প্রকৃতপক্ষে ইংরেজি বিষয় নিয়ে আগেও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। কেন ইংরেজি বিষয়ের কারণে ফলাফল বিপর্যয় হয়? এটা কি করোনা মহামারীর ভয়াবহতা নাকি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বিফলতা? প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত টানা ১২ বছর ইংরেজি পড়ে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন তো দূরের কথা, পাস ও করতে পারছে না।
তাও আবার জেএসসি, এসএসসি, এবং এইচএসসি পরীক্ষার অনেকগুলো কমন আইটেমস/ গ্রামাটিক্যাল ডিভাইস এ পরীক্ষা হয়। যেমন : Seen Passage থেকে MCQ, Question Answer, Cloze Test with Clues,Cloze Test without clues, Re-arrange,Letter,Paragraph, Application, Article, Preposition, Right form of Verb,Narration, Punctuation and Capitalization,Graph/Chart,Completing Sentence, Transformation of Sentence. বলতে গেলে ৬০ – ৭০% সিলেবাস জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় একই।মাধ্যমিক পর্যায়ে এতগুলো আইটেমস এর সাথে পরিচিত হওয়ার পরও এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে এত অকৃতকার্য কেন? মূলত ভার্সিটি এবং মেডিকেল এডমিশন টেস্টের সময় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ের দুর্বলতার চিত্রটি ভালোভাবে ফুটে ওঠে। এডমিশন টেস্টের প্রশ্ন মুলত বেইসিক লেবেলের।এই সময় এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় A এবং A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় পাস মার্ক নিয়ে হিমশিম খেতে হয়।
অথচ ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্ন বিগত সাত-আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন ছিল।তাই প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার সময় এসেছে।
এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়ার কয়েকটি কারণ তুলে ধরছি :
১.ইংরেজি বিদেশী ভাষা হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে রীতিমতো আতঙ্কের নাম।তার ওপর করোনা মহামারীর প্রভাব। এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীর বদ্ধমূল ধারণা- ইংরেজি পড়ে তারা কোন অবস্থাতেই আয়ত্তে আনতে পারবে না। কলেজের শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই অনেক দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের যথেষ্ট আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। অনেক শিক্ষার্থী মাসের পর মাস কলেজে উপস্থিত হয় না। এসএসসি পাশের পর অনেক অসচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা চাকরিতে এনগেইজড হয়ে যায়। সারা বছর পড়াশোনায় সম্পৃক্ত না থেকে পরীক্ষার ভেন্যু/হলের ভাগ্যের উপর তীর্থের কাকের মতো বসে থাকে। (তাছাড়া ইংরেজি বিষয়ের বেশিরভাগ উত্তর এক শব্দের/ শব্দগুচ্ছ /বাক্যাংশ হওয়ার কারণে পরীক্ষার হলের সুবিধা নিয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা ভালো নাম্বার ও পেয়ে যায়।) তাদের মূল্যায়নের ক্রেডিবিলিটি এবং রিলাইবিলিটি নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
২.ছাত্র-ছাত্রীদের বড় একটা অংশ শ্রেণিকক্ষে শেখার চেয়ে কোচিং সেন্টারের পড়াশুনাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।বলা হয়ে থাকে, শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ এখন কোচিং সেন্টারের হাতে!
৩.ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে একটা মিস-কনসেপশন কাজ করে-পরীক্ষার খাতায় কিছু একটা লিখলেই নাম্বার। বিভিন্ন সময় প্রশ্নে থাকা প্যাসেজ গুলোর মাঝখানে তারা প্যারাগ্রাফ এবং কম্পোজিশনের নামটা লিখে দেয়। পরীক্ষার্থীরা এতে নাম্বার পাওয়ার দাবি করে। এবং পরবর্তীতে শিক্ষকদের/ পরীক্ষকদের দোষারোপ করতে দ্বিধাবোধ করে না। অনেক শিক্ষার্থী মনে করে তারা একই মানের লিখে জেএসসি, এসএসসি তথা পুরো মাধ্যমিক স্তর পার করে আসছে।পরবর্তীতে তারা অসন্তুষ্টি নিয়ে রি-স্ক্রুটিনির
(রি-চেক)আবেদন করে।
৪.এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা কথিত কিছু গাইড ‘Touch and Pass’, Magic English এবং একটা শিখলে অনেকগুলো শেখার নিন্জা টেকনিক টাইপের বই খুঁজে শিক্ষাজীবন পার করিয়ে দেয়।মাঝে মাঝে এ ধরনের টেকনিক কিম্ভূতকিমাকার মনে হয়।যদি একজন স্টুডেন্ট Smart Bangladesh প্যারাগ্রাফ এ এভাবে লিখে- smart Bangladesh is one of the greatest problems in our country. It is very detrimental for our country. Government should take stern steps against it…. ব্লা ব্লা ব্লা
৫.ছাত্র-ছাত্রীরা মেমোরাইজেশন এর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়। পরীক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ প্রশ্নই বুঝে না-বোঝার চেষ্টাও করে না। মুখস্ত বিদ্যার উপর নির্ভর করা এইসব দুর্বল শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন সহজ আর কঠিন একই কথা।
৬.এইচএসসিতে আবশ্যিক বিষয় বাংলা এবং আইসিটি তুলনায় ইংরেজি বিষয় ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনেক কঠিন। আইসিটি বিষয়ে প্রথম তিন অধ্যায় (প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষে) পড়লে মোটামুটি কমন পড়ে যায় এবং ৬০%- ৭০% নাম্বার অনায়াসেই পাওয়া যায়। বাংলা বিষয়ের বিগত ২-৩ বছরের বোর্ডের প্রশ্নগুলো আয়ত্ত করে অনধিক ৬০% নাম্বার সহজে পাওয়া যায়। পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রশ্ন সহজের চেয়ে কমন পড়াটায় একটা বড় ব্যাপার। তাছাড়া বাংলা এবং আইসিটি বিষয়ের প্রশ্নে অপশন দেওয়া থাকে। যেমনঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে পাঁচটি রচনার মধ্যে একটি রচনা লিখতে হয় এবং প্রতিটি প্রশ্নের মধ্যে অপশন দেওয়া থাকে। ইংরেজি বিষয়ে কোনো প্রশ্নের মধ্যে অপশন থাকে না। তাছাড়া বিগত ১০ বছর এর বোর্ডের প্রশ্ন পড়ে যে কোন কিছু হুবহু কমন আসবে এর কোন গ্যারান্টি নেই।প্রকৃতপক্ষে ইংরেজি বিষয়টি বেইসিক নির্ভর।
৭.তাছাড়া এইচএসসির ফরম পূরণের সময় শিক্ষা বোর্ডের নিয়মবহির্ভূতভাবে (ঢালাওভাবে) ফরম পূরণ ও ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৮.শিক্ষা বোর্ডে নিয়োজিত পরীক্ষকগনের মধ্যে নাম্বার দেওয়ার ক্ষেত্রে হরেক রকম মেন্টালিটি।
৯.জেলা শহর এবং মহানগরের বেশির ভাগ কলেজগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগে উপচে পড়া ভিড় থাকে ।বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্র-ছাত্রীদের কারণে এসব কলেজগুলোতে পাশের হার অনেক বেশি। কিন্তু মফস্বলের অনেক বড় বড় কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের কাম্য সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী নেই। ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিক বিভাগ কেন্দ্রিক এসব কলেজে ইংরেজিতে অকৃতকার্যের হার বেশি থাকে। ২০২৪ সালের (চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের) এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানবিক বিভাগের পাশের হার ৫৭.১১%,ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পাশের হার ৭৩.৫২% এবং বিজ্ঞান বিভাগের পাশের হার ৯১.৩৩%। এই বছর ও এর ব্যতিক্রম নয়।বিজ্ঞান বিভাগ ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
১০. যোগ্য লোক যোগ্য জায়গায় নেই।
সম্ভাব্য প্রতিকার সমূহ :
১.ফলাফল উত্তরণ তথা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর) এবং শিক্ষাবোর্ডসমূহ ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, শ্রেণী কার্যক্রম মনিটরিং,এবং অভিভাবক সমাবেশ ফলপ্রসু করার ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জোরারোপ করতে পারেন।
২.ফরম পূরণের সময় শিক্ষা বোর্ডের বিধি নিষেধ পুরোপুরি মেনে চলা । নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা যাতে ফরম পূরণের আওতায় না আসে সেদিকে বোর্ড কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি রাখা।
৩.ইংরেজি বিষয়কে আরো ফ্লেক্সিবল করার জন্য বিশেষ করে কম্পোজিশন পার্ট এ অপশনের (২/৩)ব্যবস্থা করা
৪.সম্মানিত পরীক্ষকগনের মধ্যে নাম্বারের তারতম্য কমানোর জন্য শিক্ষা বোর্ডের আলোচনার (কর্মশালা) পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের প্রতিটি পত্রের জন্য একটি করে WHATSAPP গ্রুপ (অন্য কোন অ্যাপস) এর মাধ্যম থাকলে নবীন, প্রবীণ সম্মানিত পরীক্ষকগন দুই মাস ব্যাপী কর্মযজ্ঞে প্রতিনিয়ত তাদের মতামত শেয়ার করতে পারবেন।
৫.যে সমস্ত কলেজের ফলাফল ৫০% এর নিচে সে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডসমূহ শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ফলাফল উত্তরণ শীর্ষক একটি কর্মশালার আয়োজন করতে পারেন। ২০২০ সালের আগে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডসহ কয়েকটি বোর্ডে ফলাফল পরবর্তী (ইংরেজি এবং আইসিটি শিক্ষকদের নিয়ে) এই ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো।
৬.শিক্ষা বোর্ড সমূহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাত্র-ছাত্রীদের সুষম বিতরণ ব্যবস্থা(লটারির মাধ্যমে) নিশ্চিত করতে পারেন। অনেক এমপিও ভুক্ত কলেজে যদি প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১২০০/২৪০০/৩০০০ জন ছাত্র -ছাত্রী। অপরদিকে অনেক প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রীর অভাবে (ভর্তির ক্ষেত্রে রিকোয়ারমেন্ট জিপিএ ১/২ দেওয়ার পরও) অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে যদিও একই মানের শিক্ষকেরা পাঠদান করে আসছেন। ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে সুষম বন্টন হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা যেভাবে উপকৃত হবে, ছাত্র সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানসমূহ ও নতুন গতি পাবে।
সর্বোপরি, শিক্ষা প্রশাসনের সুন্দর এবং গঠনমূলক নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফলাফল উত্তরণ সম্ভব।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) ও পরীক্ষক, নিরীক্ষক এবং পুনঃনিরীক্ষক,চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।
[print_link]
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে সংসদের পথে ৬ নারী
বিএনপির আমলে ব্যাংক-শেয়ারবাজার লুটপাট নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি: অর্থমন্ত্রী
দুদকের মামলায় জাবেদসহ ৩৬ আসামি, ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবার ৭০-৮০ শতাংশ কমবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
লিসবনে চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন বৈশাখী উৎসব ও চাটগাঁইয়া মিলনমেলা
ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে সংসদের পথে ৬ নারী
বিএনপির আমলে ব্যাংক-শেয়ারবাজার লুটপাট নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি: অর্থমন্ত্রী
দুদকের মামলায় জাবেদসহ ৩৬ আসামি, ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবার ৭০-৮০ শতাংশ কমবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ
লিসবনে চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন বৈশাখী উৎসব ও চাটগাঁইয়া মিলনমেলা
দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা
স্বচ্ছতা ও দক্ষতার মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করুন: ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা
শিক্ষকদের সহযোগিতায় পুনর্জীবিত হবে সিটি রেড ক্রিসেন্টের সহশিক্ষা কার্যক্রম : মেয়র