মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিডিএ চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় একাধিক নাম, ত্যাগীদের মূল্যায়ন দাবি

সিডিএ চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় একাধিক নাম, ত্যাগীদের মূল্যায়ন দাবি

খুব শিগগির চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নতুন চেয়ারম্যান পাচ্ছে। তবে এর আগে কে হচ্ছেন সিডিএ চেয়ারম্যান, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানান গুঞ্জন। প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে বিএনপির নতুন নতুন নেতার নাম। ফলে কার ভাগ্যে জুটছে নগর উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। বর্তমান সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছেন, বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে এ পদে মহানগরকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। নতুন সরকার নতুনভাবে সব প্রশাসন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আন্দোলন সংগ্রামের ত্যাগী, ক্লিন ইমেজ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের কপাল খুলতে পারে।

বিভিন্ন সূত্র জানান, সিডিএ চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে হাফ ডজনের বেশি নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম, বর্তমান সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শওকত আজম খাজা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেল, মনজুর আলম মঞ্জু, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল আজিম উল্লাহ বাহার।

দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর সিডিএ চেয়ারম্যানের চেয়ে নগর বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে থাকতে আগ্রহী। একইভাবে  বর্তমান সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানও চান সাংগঠনিক রাজনীতি করতে। ফলে এ  ‍দুইজন নিয়ে আগামীতে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি আসার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

ফলে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে আলোচনায় থাকাদের মধ্যে শামসুল আলম বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন আওয়ামী শাসনামলে। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইলেও বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে তাঁকে নিয়ে আলোচনা চলছে বেশ। বাকলিয়ার ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান শামসুল আলম কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি ও নগর বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালে নগরীর বাকলিয়া-কোতোয়ালি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্ধিতা করে অল্প ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান নগরীর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন কয়েকবার। ছিলেন সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও সিডিএর বোর্ড সদস্যও। ফলে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে সিডিএ নিয়ে।

মহানগর বিএনপির  যুগ্ম আহবায়ক শওকত আজম খাজা নগর রাজনীতিতে আলোচিত নাম। সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে দেশজেুড়ে পরিচিত রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এ নেতা চট্টগ্রাম-১ মীরসরাই আসন থেকে এবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েও বঞ্চিত হয়েছেন। এবার তিনি কাজ করতে চান সিডিএ তে।

মহানগর বিএনপির  যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন। ছিলেন নগর যুবদল ও ছাত্রদলের মূল দায়িত্বে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাবেক এ ছাত্রনেতা বিগত দেড় দশকে ধরে হাসিনা বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন জীবনের ঝুকি নিয়ে। সারাদিন রাজনীতি নিয়েই তাঁর ধ্যান জ্ঞান। ফলে তাঁকে এবার মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে ধারণা অনুসারীদের।

নগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেল নগরীর কাট্টলীর ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান। ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুইবারের সহসভাপতি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক।  মনজুর আলম মঞ্জুও সাবেক ছাত্রনেতা ও নগর বিএপির যুগ্ম আহবায়ক। ছাত্র রাজনীতিতে নগর ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার এই পদে চুক্তিভিত্তিক রাজনৈতিক নিয়োগ দিয়ে আসছে সরকার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর ২০০৯ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম টানা ১০ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর চিটাগাং ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অর্ডিন্যান্স ১৯৫৯ যুগোপযোগী করে ২৯ জুলাই ২০১৮ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। সে আইনের ৭ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান বা বোর্ড সদস্য হিসেবে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি সময়ের জন্য নিয়োগ লাভের জন্য বিবেচিত হবেন না। এরপর ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল নিয়োগ দেওয়া হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জহিরুল আলম দোভাষকে। তিনি দুই মেয়াদে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইউনুছকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইউনুছের মেয়াদ চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তাঁর নিয়োগ বাতিল করে প্রকৌশলী মো. নুরুল করিমকে সিডিএ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়। একই সঙ্গে বোর্ড সদস্য করা হয় ছয়জনকে। তাঁরা হলেন ইঞ্জিনিয়ার মানজারে খোরশেদ আলম, দৈনিক আমার দেশ-এর আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি, হাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, স্থপতি সৈয়দা জারিনা হোসাইন, স্থপতি ফারুক আহম্মেদ, মো. সাখাওয়াত হোসাইন এবং অ্যাডভোকেট সৈয়দ কুদরত আলী।

 

[print_link]

WhatsApp
Facebook
X
LinkedIn
Email
Telegram