মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সমীপেষু…….

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তোমার বুকে মাথা রেখে
আমি যে সুখ পেয়েছি
তা মৃত্যুর মতোই তীব্র…
— নীললোহিত

|||||অন্যরকম অনুভূতি হয় এই দিনটি এলে। বিয়োগ বেদনা চাগিয়ে ওঠে। শব্দের তীব্রতা এতটা হৃদয় বিদারক হতে পারে, তা আবারও উপলব্ধি করলাম। রোমন্থন করি— মনের জানালায় ভেসে আসে অগ্রজ কবি কাজল চক্রবর্তীর লালন করা সাংস্কৃতিক খবর পত্রিকা আয়োজিত কবিতা উৎসবের কথা। বাংলা আকাদেমিতে ওই বছর দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি শামসুর রাহমান স্মরণ অনুষ্ঠানটিতে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সভাপতিত্ব করছিলেন। বৃষ্টিতে তিলোত্তমা নগরী ভিজে একসা তখন। বেশ অন্যরকম আবহ। যেন কলকাতার অলিগলি মন কেমনের ভুলভুলাইয়া। মনে পড়ছে — ঐকতান সভাঘরে দুলতে থাকা চুলের ঘনত্ব নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ঝড়ো হাওয়া পত্রিকার সম্পাদক কবি অমল কর। বন্ধুজন কবি জুবিন ঘোষের সাথে আলাপ হলো ওই সময়ে। ওর কবিতায় এক অনন্যমাত্রা সেই শুরু থেকেই। এখনও যেন দীর্ঘ মুহূর্তবন্দি করে রাখে শব্দের টানে। মনে পড়ে নীলাঞ্জন দা সেই বছরই বিষ্ণু দে পুরস্কার পেলেন। ঐকতান সভাঘর থেকে যেতে হবে রবীন্দ্রসদন, নীলোহিতকে দেখবো আর তাঁর কণ্ঠে শুনবো নীরার কথা, বেশ ভাবছি আর উদ্যম বেড়ে চলেছে। না! আমার সাথে তাঁর বিশেষ দহরম মহরম ছিল না। রোগা লিকলিকে শরীরে একটি ছোট্ট কাগজের প্রতিনিধি কতটুকুই বা জায়গা নিতে পারে! এই সকল দিনযাপন আর পুরনো ভালোবাসা বলতে – কবিতা এবং অক্ষরের মানুষজন যেন ক্রমেই ধূসর হচ্ছে। ইদানিং লিখি নির্জন যাপন আহ্লাদ। অদ্ভুত শক্তি পেতাম মানুষটির কথা ভাবলেই। জেনেছিলাম তরুণ যুবকদের আর্থিক সাহায্য দিয়ে নীললোহিত বলতেন আন্দামান যাওয়ার কথা, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা, আর আপোষহীন কবিতা উচ্চারণের কথা। প্রাণিত হয়েছি, হয়েছি উদ্দীপ্ত! মনে পড়ে যাদবপুরের ক্যাম্পাস দিয়ে হাঁটার কথা, আর স্মৃতিতে ভাসছে তখনকার উচ্চারিত কবিতার লাইন —
(… একটাও রয়েলগুলি কিনতে পারিনি ….),
∆ সাদা বাড়িটা … ইত্যাদি ইত্যাদি।

এ যেন আমার প্রতিবিম্ব। এ যেন আমার প্রতিনিধিত্ব করা আর্তনাদ। অথচ সেই মানুষটি কোথায় …? ভাবছি আর ভাবছি! মনে পড়ে সেই ভোরের কথা, অফিসে যাওয়ার তড়িঘড়ি, হঠাৎ মুকুর সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক সুখেন দা এবং তারপর প্রখ্যাত কবি ব্রত চক্রবর্তীর ফোন এলো, কথার উপকণ্ঠে এক আত্মজন হারানোর বিমর্ষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমরা। সেই দিনই ব্রত দা একটি কবিতা লিখেছিলেন, তখন আমি সাহিত্য সাম্পান পত্রিকাটি সম্পাদনা করতাম। পত্রিকাটিতে প্রকাশ পেল নিবেদিত কবিতাটি। কিন্তু অন্তরে গভীর ক্ষতের আকুতি। মনের মধ্যে তীব্র কষ্ট হতে লাগলো। তারপর কবি এবং সম্পাদক শুভঙ্কর সাহার সঙ্গে সুনীল স্মরণ পালিত হলো অনাড়ম্বর ভাবে। সেদিন উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব শিবশঙ্কর ঘোষাল মহাশয়ও। কখনো কথা হতো বিশিষ্ট কবি এবং #রক্তমাংস পত্রিকার সম্পাদক গৌতম ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে। রানাঘাট যেতাম যখন ,তখন কবি কার্তিক মোদক ( সম্পাদক – সীমান্ত সাহিত্য পত্রিকা ) দেখাতেন স্মৃতিময় ছবির অ্যালবাম। স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় এবং অন্যান্য গুণীজনদের স্মরণীয় দৃশ্যবন্দি একের পর এক বলতে থাকতেন জেঠু। আমি নিবিড় হয়ে শুনতাম। তারপর সময় পেলেই কখনও প্রিয় সুহৃদ অশনি সংকেত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কবি কৃশানু দাঁ আর আমি মন খারাপের ডালি নিয়ে পৌঁছে যেতাম প্রিয় মানুষ অগ্রজ কবি সমরেশ মুখোপাধ্যায় এঁর বাড়ি হয়ে বিভূতি ঘাটে । Jolly Mukhopadhyay জলি বৌঠান না খাইয়ে ফেরাতেন না। মনে পড়ে আদরের স্বর্ণেন্দু তখন খুব ছোটো, দেখা হলেই মিষ্টি আদুরে কণ্ঠে বলতো—কাকু, তোমরা কোথায় যাচ্ছ, আমিও যাবো … এখন স্বর্ণ অনেক বড় হয়ে গেছে। এভাবেই কখনও বিরাটিতে দেখা হতো আশির দশকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি অমল দার সাথে। মনে পড়ে অগ্রজ কবি অমলেন্দু বিশ্বাসের সঙ্গে কাটানো সেই সকল নস্টালজিক মুহূর্ত। তিনি তার অক্ষরের মুন্সিয়ানার কথা বলতে পারেন অবলীলায়। আজও অনর্গল বলতে পারেন সৃজন কথা। মুগ্ধ হয়ে শুনতাম বিনয়, সুনীল, শক্তির কথা। সেই সময়েই অমল দার সনেটের প্রতি অদ্ভুত এক টান তৈরি হতে থাকে । তারপর এগিয়ে চললো সময়ের পানসি।

মনে পড়ে—
ইছামতির পাড়ে বসে কখনও আওড়াতাম সুনীল আলোর সোনালি সম্ভার। এভাবেই প্রতিবছর তিনি একটু একটু করে ভাবনার সরণিতে উজ্জ্বল উপস্থিতি জাগিয়ে রেখেছেন। আমরা বিশ্বাস করি তিনি এভাবেই তাঁর রেখে যাওয়া সৃজনের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আকাশে দেদীপ্যমান থাকবেন🙏🏼

আজকের এইদিনেই তিনি আলোকপথের পথিক হয়েছেন…

তাঁর স্মৃতির প্রতি নিবেদিত শব্দকথা🙏🏼

#কবি_সুনীল_গঙ্গোপাধ্যায়_সমীপেষু /

@শুভদীপ রায়

প্রাকভোর. . .
মুঠোফোনের বুক কেঁপে উঠলো দুরুদুরু
থেমে থেমে সুর তুলে নীরব হয়ে গেল
ভাবনার ঠোঁট

সংযোগে শুনতে পেলাম—
‘সুনীল মিশেছে সুনীলেরই আত্মলিপিতে’

তারপর . . .
অক্ষরঋণ অনুসন্ধান করতে থাকে
হাহাকার ধ্বনি
সমগ্র কাব্যআকাশ খুঁজতে থাকে
বরুণার সুগন্ধি রুমাল এবং
বিমূর্ত নীরার শব্দপাণ্ডুলিপি

মেঘচোখ বলে ওঠে—
কথা তো তিনিও রাখেননি!
যেজন শিরোনামে লিখে গেছেন—
তীব্র উপসংহার আর জাগতিক বাণী!

[print_link]

WhatsApp
Facebook
X
LinkedIn
Email
Telegram