সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম। পিতা দেশের একজন সফল ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ এবং সাবেক মন্ত্রী। নিজে উচ্চশিক্ষিত, বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার। চাইলে অনায়াসেই পারতেন পড়ালেখা শেষে পরিবার নিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ও উন্নত জীবন যাপন করতে, গড়ে তুলতে পারতেন সুখের এক বিশাল সাম্রাজ্য। কিন্তু না, তিনি সেই বিলাসী জীবনের মোহ ত্যাগ করে বেছে নিয়েছেন রাজপথের কণ্টকাকীর্ণ পথ। তিনি আর কেউ নন, বীর চট্টগ্রামের অহংকার এবং তৃণমূলের প্রাণপ্রিয় নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলাল।
রক্তের উত্তরাধিকার ও রাজপথের লড়াই
পারিবারিক ঐতিহ্য ও আদর্শকে বুকে ধারণ করেই ব্যারিস্টার মীর হেলালের রাজনীতিতে আগমন। তাঁর পিতা যেভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবধি দলের পতাকাতলে অবিচল আছেন, ঠিক তেমনি তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে মীর হেলালও দলের চরম দুঃসময়ে হাল ধরেছেন। বিএনপির বর্তমান কর্ণধার জনাব তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাংগঠনিক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ মূল দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে সদর্প ভূমিকা পালন করেছেন। শুধু চট্টগ্রাম মহানগরই নয়, তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলাতেও প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
গণমানুষের রায় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব
জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চট্টগ্রাম-০৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) সংসদীয় আসন থেকে লক্ষাধিক ভোটের বিশাল ব্যবধানে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার মীর হেলাল। বর্তমানে তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
’ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’
মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকেই হয়তো ভাবছেন তিনি প্রথাগত মন্ত্রীদের মতো রুটিন ওয়ার্কে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু মীর হেলালের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি এখনো সেই আগের মতোই ‘দলপাগল’ কর্মী হিসেবেই রয়ে গেছেন। সারাদিনের দাপ্তরিক ও সরকারি প্রোগ্রাম শেষ করে যেখানে অনায়াসেই পরিবারকে সময় দিতে পারতেন, সেখানে তিনি ছুটে যান নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছে।
দিনশেষে ক্লান্ত শরীরে, ঘামে ভেজা পাঞ্জাবি গায়ে জড়িয়ে দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর এই উপস্থিতি প্রমাণ করে—”ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।” পদের মোহ বা ক্ষমতার চেয়ার তাঁকে তৃণমূলের মাটি ও মানুষ থেকে বিন্দুমাত্র দূরে সরাতে পারেনি।
তৃণমূলের প্রত্যাশা
আজ দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সর্বস্তরের তৃণমূল কর্মীরা ব্যারিস্টার মীর হেলালের মতো এমন একনিষ্ঠ ও দলপাগল নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। যিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তৃণমূলকে সময় দেবেন, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সুখ-দুঃখের কথা শুনবেন এবং তাদের আগলে রাখবেন।
চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মীর হেলালের সুদৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বীর চট্টগ্রাম অতীতেও যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিল, ভবিষ্যতেও তেমনি যেকোনো পরিস্থিতিতে ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখবে।

