১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে যে রাজনৈতিক দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সময়ের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় সেই দল আজ বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্থান-পতন, সাফল্য-ব্যর্থতা, আন্দোলন-সংগ্রাম আর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বিএনপির পথচলা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
বিএনপির জন্ম হয়েছিল এক অস্থির রাজনৈতিক সময়ে। রাষ্ট্রীয় সংকট, রাজনৈতিক বিভাজন ও অনিশ্চয়তার সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক দর্শন। ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সব নাগরিকের অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়- এই দর্শনই দলটির রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।
বিএনপির ইতিহাসে যেমন রয়েছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠার অধ্যায়, তেমনি রয়েছে অর্থনৈতিক উদারীকরণ, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, জনশক্তি রপ্তানি, নারী শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের নানা উদ্যোগ। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সার্ক প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তবে কোনো রাজনৈতিক দলের মূল্যায়ন কেবল অতীতের অর্জন দিয়ে শেষ হয় না। সময় বদলায়, সমাজ বদলায়, মানুষের প্রত্যাশাও বদলায়। ফলে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- আগামীর বাংলাদেশকে তারা কতটা আধুনিক, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে?
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এখন শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়; তারা চায় কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনাতেও প্রয়োজন নতুন চিন্তা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতা।
তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ কেবল অতীত স্মরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে হোক আত্মসমালোচনা ও নতুন অঙ্গীকারের দিন। ইতিহাস বিএনপিকে যে সুযোগ দিয়েছে, তার প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন জনগণের আস্থা রূপ নেবে সুশাসনে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রূপ নেবে বাস্তবতায় এবং রাষ্ট্রক্ষমতা পরিণত হবে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার হাতিয়ারে।
৪৮ বছরের অভিজ্ঞতা বিএনপির শক্তি; কিন্তু আগামীর বাংলাদেশই হবে তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পথ একটাই- জনগণের কাছে থাকা, জনগণের কথা শোনা এবং জনগণের জন্য কাজ করা।
লেখক : সম্পাদক- নগর নিউজ, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য- জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি।

