বাংলাদেশের আগামী অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হবে ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, ফ্রিল্যান্সিং ও বিভিন্ন সৃজনশীল পেশাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের জন্য অসংখ্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বিজনেস আইডিয়া ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসরাফিল খসরু বলেন, আমার মূল পরিচয় একজন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হিসেবে। আমি রাজনৈতিক অঙ্গনে এসেছি অনেক পরে। কেউ যদি আমার পেশাগত পরিচয় জানতে চান, আমি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
নিজের ব্যবসায়িক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ছোট বাইং হাউসের মাধ্যমে ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
ব্যবসায় সফলতার কোনো নিশ্চিত সূত্র নেই। বরং অধিকাংশ ব্যবসায়িক উদ্যোগই ব্যর্থ হতে পারে। তবে ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। বেশিরভাগ বিজনেস আইডিয়াই সফল হয় না। কিন্তু যারা লেগে থাকে, তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, বলেন তিনি।
ব্যবসায় সফলতার জন্য কমিটমেন্ট, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং কঠোর পরিশ্রমকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ইসরাফিল খসরু বলেন, একজন ব্যবসায়ীর সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সুনাম। কঠিন সময় এলেও যদি সুনাম ধরে রাখা যায়, তাহলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় গার্মেন্টস ও জনশক্তি রপ্তানিকেন্দ্রিক অর্থনীতি থাকলেও বর্তমানে ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি, ফ্রিল্যান্সিং, ইনফ্লুয়েন্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মতো খাতগুলো নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
দেশের তরুণদের উদ্দেশে ইসরাফিল খসরু বলেন, বাংলাদেশের যুবসমাজ ইতোমধ্যে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলার নেতৃত্বও তরুণদের হাতেই থাকবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে আরও বেশি ক্রিয়েটিভ ও ইন্টেলেকচুয়াল হাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

