২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়ে কোনো প্রকার নোটিশ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের কয়েকটি ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার দক্ষ ও নিরপরাধ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চাকরিচ্যুতদের মধ্যে অনেকের চাকরির মেয়াদ ৪ থেকে ৭ বছর হয়েছিল। গণহারে এই টার্মিনেশনের সময় অনেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে, ওমরাহ পালনে কিংবা চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলেন। কোনো কিছু বিবেচনা না করেই এই অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চাকরি হারিয়ে গত দেড় বছর ধরে হাজারো পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমনকি চিকিৎসার অভাব ও মানসিক চাপে একাধিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অকাল মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী ব্যাংকাররা সরকারের কাছে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে সব চাকরিচ্যুত ব্যাংকারকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। চাকরিচ্যুতকালীন সময়ের বেতন-বোনাসসহ সব ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। চাকরিচ্যুতদের ওপর অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক, আঞ্চলিক ও গোষ্ঠীগত তকমা দেওয়া এবং যোগ্যতা নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য বন্ধ করতে হবে।
চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এম মনছুর আলম, মো. ইসকান্দর সুজনসহ অন্যান্য ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবিলম্বে দাবি মানা না হলে আগামীতে আরও বৃহত্তর ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

