বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তা মো. জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে একের পর এক বদলি-বাণিজ্য, প্রভাব খাটানো এবং ঠিকাদারকে অপহরণ করে মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিআরটিসির একাধিক সূত্র, ভুক্তভোগী পক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই কর্মকর্তার দুটি বদলিকে কেন্দ্র করেই মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জামিল হোসেন গাবতলী ডিপো থেকে টুঙ্গিপাড়া ট্রাক ডিপোতে বদলি হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই বদলিটি নিশ্চিত করতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঘুষের লেনদেন হয়েছিল। এর মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি আবারও টুঙ্গিপাড়া ট্রাক ডিপো থেকে চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে বদলি হয়েছেন। চলতি মাসের ২৫ তারিখে নতুন কর্মস্থলে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিআরটিসি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম ডিপোর এই আকর্ষণীয় পদটি বাগিয়ে নিতে এবার প্রায় ২০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জামিল হোসেনের দুটি বদলির ক্ষেত্রেই লাখ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।
বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের ভাষ্য, জামিল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটির ভেতরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমল জুড়ে তিনি বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ও তাঁর ‘পোষ্যপুত্র’ পরিচয়ে সংস্থায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতেন। মূলত এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়েই তিনি একের পর এক সুবিধাজনক পদে পদায়ন ও বদলি পেয়ে আসছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে শুধু বদলি-বাণিজ্যই নয়, ঠিকাদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতনেরও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোহাম্মদ আবুল হাসান নামের এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, জামিল হোসেন যখন গাবতলী ডিপোর ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে (অপহরণ করে) প্রচণ্ড মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এরপরও নানাভাবে তাঁকে চাপ, হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে জামিল হোসেনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক বছরের ব্যবধানে দুই দফা বদলি-বাণিজ্য, প্রতিবারই লাখ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এবং পাশাপাশি ঠিকাদার নিপীড়ন ও অপহরণের মামলা বিআরটিসির অভ্যন্তরে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তা মো. জামিল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

